ফ্রিল্যান্সিং এ কি কি কাজ করা যায়

ফ্রিল্যান্সিং এ কি কি কাজ করা যায়

ফ্রিল্যান্সিং এ কি কি কাজ করা যায় এক কথা বলে শেষ করা যাবেনা। তারপরেও এক কথায় বলতে গেলে ডিজিটালী বা ভার্চুয়ালী যেসব সার্ভিস অনলাইনের মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব প্রায় সব ধরণের কাজ ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোর মাধ্যমে করা যায়। ফ্রিল্যান্সিং এ কি কি কাজ করা যায় নিচে ক্যাটাগড়ি ভিত্তিক এ সম্পর্কে কিছু বিবরণ দেওয়া হলোঃ

প্রোগ্রামিং এবং টেক ক্যাটাগড়িঃ

প্রোগ্রামিং এবং টেক ক্যাটাগড়িটা মূলত ওয়েব প্রোগ্রামারদের জন্য, যারা তাদের প্রোগ্রামিং নলেজকে কাজে লাগিয়ে রিয়েল লাইফের অনেক সমস্যার সমাধান করার জন্য কাজ করে থাকে। নিম্নে প্রোগ্রামিং এবং টেক ক্যাটাগড়ির কয়েকটি সাব ক্যাটাগড়ি সম্পর্কে আলোচনা করা হলোঃ

আইটি সাপোর্টঃ আইটি সাপোর্ট ক্যাটাগড়িতে সেলাররা আইটি এর নির্ধারিত এক বা একাধিক বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে তুলনামূলক কম দক্ষতাসম্পন্ন বায়ারদের আইটি সাপোর্ট দিয়ে থাকে। এই ক্যাটাগড়িতে ছোট-ছোট এবং ক্ষেত্রবিষেশে বড় কোনো আইটি প্রবলেমের সলিউশন নিয়ে কাজ করা হয়ে থাকে। উদাহরণ সরুপঃ সার্ভার ম্যানেজমেন্ট, সার্ভার কনফিগারেশন, ডিএনএস ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি।

সিএমএস এবং ওয়েবসাইট বিল্ডারঃ প্রোগ্রামিং এবং টেক ক্যাটাগড়ির অনত্যম একটি সাব ক্যাটাগড়ি হলো সিএমএস এবং ওয়েবসাইট বিল্ডার। এই ক্যাটাগড়ির ফ্রিল্যান্সাররা মূলত ওয়েবসাইট তৈরির একটি স্ট্যান্ডার্ড ধারণা নিয়ে বিভিন্ন ধরণের ওয়েবসাইট বিল্ডারের উপর পারদর্শীতা অর্জন করে এবং তাদের দক্ষতাকে মার্কেটপ্লেসে সেল করার মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করে থাকে।

ওয়ার্ডপ্রেসঃ ওয়ার্ডপ্রেস হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত সিএমএস, যা ব্যবহার করে খুব সহযে প্রায় যেকোনো ধরণের ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলা যায়।

মোবাইল অ্যাপসঃ ছোট এবং মাঝারি মানের মোবাইল অ্যাপসগুলো বায়াররা ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে করে নিয়ে থাকে। তাই যারা মোবাইল অ্যাপস তৈরি করতে জানেন তারা ফিক্সড জব করতে না চাইলে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন।

গেম ডেভেলপমেন্টঃ গেম ডেভেলপমেন্ট শিখেও এটার মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন। অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের মতোই বিভিন্ন ধরণের ছোট এবং মাঝারি মানের গেম বায়াররা ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে তৈরি করে নিয়ে থাকেন।

ওয়েব প্রোগ্রামিংঃ ওয়েব প্রোগ্রামিং ক্যাটাগড়িতে প্রোগ্রামাররা সাধারণত বায়ারদের রিকোয়ারমেন্টস অনুযায়ী কাস্টম অ্যাপ্লিকেশন বানিয়ে দেয়। এখানে প্রোগ্রামররা সাধারণত সেসব অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে যেগুলো মার্কেটে রেডিমেড আকারে কিনে পাওয়া যায়না। অথবা রেডিমেড আকারে কিনে পাওয়া গেলেও সেগুলোকে মডিফাই করার জন্য প্রোগ্রামাররা তাদের প্রোগ্রামিং নলেজকে কাজে লাগিয়ে বায়ারদের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে।

সাইবার সিকিউরিটিঃ প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সবকিছুই অনলাইন ভিত্তিক হয়ে যাচ্ছে। আর সবকিছু অনলাইন ভিত্তিক হয়ে যাওয়ার করণে অনলাইনে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ছড়িয়ে পড়া বা হ্যাক হওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্টরা ডেটার নিরাপত্তা প্রদান করার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে থাকে।

ই-কমার্স ডেভেলপমেন্টঃ পেস্তাশপ, ম্যাগেন্টো, ইউকস এবং শপিফাই ইত্যাদি মাধ্যম ব্যবহার করে খুব সহজেই ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলা যায়। অনেকেই আছেন যারা শুধু এই সিএমএস গুলোর উপর পারদর্শিতা অর্জন করে বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে অর্থ উপার্জন করছেন।

চ্যাটবটঃ চ্যাটবট হচ্ছে একটি স্বয়ংক্রিয় টুল যেটা গ্রাহকদের সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর অটোমেটিক দিয়ে দেয়। এটার উপর দক্ষতা অর্জন করার মাধ্যমেও অনেকেই অনলাইন থেকে আয় করছে।

ফাইল কনভার্টঃ এরকম অনেকেই আছেন যারা কিনা শুধু ফাইল কনভার্টের কাজ করে থাকেন। উদাহারনস্বরুপ- ক্লায়েন্ট আপনাকে কিছু ফটো দিয়ে বলবে ফটোতে যে টেক্সটগুলো বা ডাটাগুলো আছে সেগুলো তুমি ওয়ার্ড ফাইলে এক্সট্রাক্ট করে তাকে দেওয়ার জন্য। যদিও এরকম কাজের পরিধি অটোমেশনের কারণে দিন দিন এসব কাজ কমে আসতেছে।

ডেটাবেস ম্যানেজমেন্টঃ বিভিন্ন রকমের ডেটবেস ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমেও অনেকেই ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করছেন। তবে এটার জন্য আপনি যে ডেটাবেস নিয়ে কাজ করবেন বলে ভাবছেন সেই ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের উপর আপনাকে ভালোভাবে দক্ষ হতে হবে। বিভিন্ন কুয়েরি, ফর্মূলা এবং ডেটাবেস অ্যাডমিনিসট্রেশন বিষয়গুলো অবশ্যই ভালোভাবে জানা উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published.