তরুণদের ফ্রিল্যান্সিংয়ে আগ্রহ

তরুণদের ফ্রিল্যান্সিংয়ে আগ্রহ এবং কিছু সতর্কতা

তরুণদের ফ্রিল্যান্সিংয়ে আগ্রহ | সোস্যাল মিডিয়ায় অনেক সময় লক্ষ্য করা যায় অনেকেই চাকুরি ছেড়ে দিয়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ের দিকে ঝুঁকছেন। এটা আসলে কতটুকু সঠিক সীন্ধান্ত কিংবা ভুল ইত্যাদি বিষয়ে কিছু বাস্তব অবিজ্ঞতা তুলে ধরবো। এর বাইরেও টিনএজাররা অনেকেই স্কুল-কলেজের গুরুত্বপূর্ণ সময়টিতে যখন তাদের শুধু বইয়ের সাথে সম্পর্ক থাকার কথা তখনও তারা ফ্রিল্যান্সিয়ের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে এটা নিয়েও আজকের এই আর্টিকেলে আলোচনা করবো।

প্রথমেই আসি চাকরি ছেড়ে দিয়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ে আসা কতটুকু যৌক্তিক?

অনেক সময় পত্রিকার শিরোনাম হয় কোনো এক ফ্রিল্যান্সার চাকুরি ছেড়ে দিয়ে মাত্র ২/৩ বছরে ফ্রিল্যান্সিং করে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন, বাড়ি গাড়ি করেছেন। এসব দেখে অনেকেই চাকুরি ছেড়ে দিয়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ে আসার আগ্রহ বাড়তে পারে কিন্তু এটা তার জন্য মারাত্বক ক্ষতির কারণও হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রকৃতপক্ষে ফ্রিল্যান্সিং করে কোটি কোটি টাকা কামানোটাকে ছোট বেলার রুপকথার গল্পের মতো করেই মনে করা উচিত। তবে হ্যাঁ, যারা টিম ব্যাসড কয়েকজন মিলে একটি টিম করে কাজ করে তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টা আলাদা। এর বাইরে একজন মানুষ একাই ফ্রিল্যান্সিং করে এতো টাকা ইনকাম করা এটা প্রকৃতপক্ষে সত্য নয়।

তবে হাতেগোনা দু-এক জন এক্সট্রাঅর্ডিনারি মানুষের বিষয়টা আলাদা। আপনিও যে তাদের মতোই হবেন বিষয়টা এরকম নয়। এই কথার অর্থ এই নয় যে, আমি আপনাকে ডিমোটিভেটেড করছি। বিষয়টা মোটেও এরকম না। আপনিও এক্সট্রাঅর্ডিনারি হওয়ার চেষ্টা করে দেখতে পারেন তবে রিক্সটা আপনার নিজের হাতেই।

তরুণদের ফ্রিল্যান্সিংয়ে আগ্রহ | অন্যদিকে ফ্রিল্যান্সিংটাকে বলা হয়ে থাকে মুক্তপেশা। অর্থাৎ যখন খুশি আপনার স্বাধীনতা মতো কাজ করবেন এবং যখন খুশি ঘুমাবেন, ঘুড়ে বেড়াবেন ইত্যাদি। কিন্তু সত্য কথা হচ্ছে এটাকে মুক্তপেশা বা স্বাধীনপেশা বলা হলেও এটার মধ্যে আমি স্বাধীনতাটা খুব কম খুজে পাই। আমি নিজের কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করতে যাচ্ছি।

সময়ের পার্থক্য থাকার কারণে ইউরোপ আমেরিকার ক্লায়েন্টদের সাথে সাধারণত রাতের বেলা কাজ করতে হয়। প্রজেক্ট নিয়ে অনলাইন মিটিংগুলো সাধারণত রাতের বেলাই বেশি হয়ে থাকে। আমি একদিন রাত ৩ টার দিকে কাজ শেষ করে ঘুমানোর জন্য বেডে গেলাম। হালকা ঘুম ঘুম ভাব এসেছে। এমন সময় একটা ক্লায়েন্ট মেসেজ করলো। ওই ক্লায়েন্টের একটা প্রজেক্ট আমার কাছে রানিং ছিলো। আমি অনেকটা বিরক্ত হয়ে ক্লায়েন্টের মেসেজের রিপ্লে না দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।

পরের দিন ঘুম থেকে উঠে ক্লায়েন্টকে রিপ্লে করলাম তখন সে ঘুমায়। সে যেসব ইন্সট্রাকশন দিয়েছিলো আমি সবকিছু কমপ্লিট করেছি এবং প্রজেক্ট ডেলিভারি দেওয়ার আগে তাকে জিজ্ঞেস করেছি সবকিছু ঠিক আছে কিনা। সে বললো ঠিক আছে। পরে আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম উক্ত প্রজেক্টে তার আরো কোনো নতুন রিকোয়ারমেন্টস থাকলে আমাকে জানানোর জন্য। সে বললো না ঠিক আছে সব। পরে আমি তার পারমিশন নিয়ে ওই প্রজেক্টটা ডেলিভারি দিয়ে দিলাম।

কিছুক্ষণ পরে দেখলাম সেই ক্লায়েন্ট একটা রিভিউ দিয়েছে। রিভিউয়ে কমিউনিকেশন লেভেলে আমাকে ওয়ান স্টার দিয়েছে (বাকি দুটিতে অর্থাৎ “Recommend to a friend” এবং “Service as described”-এ আমাকে ফাইভ স্টার দিয়েছে) এবং আমার ধারণা অনুযায়ী উনি হিডেন ফিডব্যাকেও আমাকে খারাপ দিয়েছে। আমি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রজেক্ট পেলেও এই কাজটির পরে আমি আর খুব একটা নতুন প্রজেক্ট পাচ্ছিলাম না। আমার এতো বছরের কাজের ইতিহাসে ওই লোকটিই ছিলো একমাত্র ব্যাক্তি যিনি আমাকে কমিউনিকেশন লেভেলে ওয়ান স্টার দিয়েছে। আমার অনেক ক্লায়েন্ট আমার কমিউনিকেশনের জন্য প্রশংসা করলেও উনি দিয়েছেন ওয়ান স্টার ……..

তরুণদের ফ্রিল্যান্সিংয়ে আগ্রহ | ফ্রিল্যান্সিং করার সময় আপনি যে সবসময় কাজ পাবেন বিষয়টা কিন্তু মোটেও এরকম নয়। আপনি যখন দেশের চাকুরির বাজারে প্রতিযোগিতা করছেন তখন কিন্তু আপনি শুধু বাংলাদেশের মানুষদের সাথে প্রতিযোগিতা করছেন কিন্তু যখন আপনি ইন্টারন্যাশনাল ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটের জবের জন্য প্রতিযোগিতা করছেন তখন কিন্তু আপনি পুরো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের সাথে প্রতিযোগিতা করতেছেন।

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে অনেক সময় দেখবেন আপনি প্রচুর পরিমাণে কাজ পাচ্ছেন আবার অনেক সময় লক্ষ্য করবেন আপনি কোনো কাজ পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, আপনি যখন একটি ফিক্সড জব করবেন তখন কিন্তু আপনার কাজ পাওয়া, না পওয়ার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছেনা। পারমানেন্ট জব ছেড়ে ফ্রিল্যান্সিয়ের দিকে আসার আগে উপরোক্ত বিষয়গুলো একটু ভেবে নেওয়া দরকার।

তরুণদের ফ্রিল্যান্সিংয়ে আগ্রহ এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের উল্লেখযোগ্য রিক্সগুলো কি কি?

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে অনেক ধরণের রিক্স থাকে যার মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য হলো প্রোফাইল ব্যান হয়ে যাওয়া। শুরুর দিকে অনেকেই মার্কেটপ্লেসের রুলসগুলো সঠিকভাবে না জানার কারণে অনেক ধরণের ভুল করে বসে, যার ফলে অনেকের প্রোফাইল পারমানেন্টলি ব্যান হয়ে যায়। তাই নতুন ফ্রিল্যান্সারদের মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরু করার আগে উক্ত মার্কেটপ্লেসের রুলসগুলো খুব ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত।

তরুণদের ফ্রিল্যান্সিংয়ে আগ্রহ | এতো বললাম নতুন ফ্রিল্যান্সারদের কথা। এবার এক্সপার্টদের নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়। আমার কমিউনিটির এক বড় ভাই। উনি বেশ কয়েক বছর ধরে ফ্রিল্যান্সিং করেন। কাজেই উনি যথেষ্ট দক্ষ ছিলেন। উনার টোটাল ইনকাম ২০ হাজার ডলার পূর্ণ হওয়ার দ্বারপ্রাস্তে ছিল। কিছুদিন পরে টপ রেটেড সেলার হবে। কিন্তু তার ঠিক আগ মুহূর্তে তার আইডি ব্যান হয়ে যায়। উক্ত মার্কেটপ্লেসের সাপোর্টে বার বার যোগাযোগ করেও উনি আর ওই আইডি ফিরে পাননি। সুতরাং, ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে রিক্স আছে এটা জেনে শুনেই এই সেক্টরে কাজ করা উচিত।

স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু সতর্কতাঃ

সোস্যাল মিডিয়ায় কিছু পোস্ট এবং কমেন্ট আমার চোখে পড়ছে। তখন থেকেই ভাবতেছি এটা নিয়ে একটু সচেতনতা ছড়ানো দরকার। নাহলে আমাদের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া টিনএজাররা ভুল পথে যাবে, যেটার জন্য পরবর্তীতে তাদেরকে অনেক আফসোস করতে হবে। স্কুল কলেজ পড়ুয়া অনেক টিনএজাররা ফ্রিল্যান্সিংয়ে আসতে চায় কিংবা অনেকেইতো পুরোপুরি পড়ালেখা বাদ দিয়ে ফুলটাইম ফ্রিল্যান্সিং করতে চায়।

আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলবো ভাই জীবনে আরো অনেক সময় আছে। জীবনটাতো সবেমাত্র শুরু। আরো অনেক সময় পাবা সামনে। স্কুল কলেজে থাকা অবস্থায় তোমাদের শুধু বইয়ের সাথেই সম্পর্ক থাকা উচিত। এখন একটু ভালোভাবে পড়ো। যদি ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রতি খুব বেশি ইচ্ছা থাকে তবে ভার্সিটিতে উঠে একটু একটু করে চেষ্টা করে দেখো। তাহলেই বুঝতে পারবে ভার্চুয়াল জগতের ফ্রিল্যান্সিং দুনিয়াটা আসলে কেমন।

অনলাইন আর্নিং/ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য আমার এই চ্যানেলটি ফলো করতে পারেন। এই চ্যানেলে আমি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ওয়েব ডিজাইন, ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপমেন্ট, এসইও, ফেসবুক মার্কেটিং এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিনিয়ত ভিডিও আপলোড করে থাকি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *