অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে বিস্তারিত

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের একটি অংশ যা ডিজিটাল উপায়ে প্রচারের মাধ্যমে আপনার রেফারকৃত লিংকে ক্লিক করে কোনো ক্রেতা পণ্য কিনলে আপনি একটি কমিশন পাবেন। তবে আপনি কমিশন পেলেও ক্রেতার কাছ থেকে আপনার অ্যাফিলিয়েট পার্টনার কোম্পানি কোনো এক্সট্রা পেমেন্ট নিবেনা।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের কমিশন পার্সেন্টেজ সাধারণত আপনার রেফারকৃত প্রোডাক্টের মূল্যের ২% থেকে ৫০% পর্যন্তও হয়ে থাকে। ডিজিটাল প্রোডাক্টের ক্ষেত্রে পার্সেন্টেজ সাধারণত বেশি হয়ে থাকে এবং ফিজিক্যাল প্রোডাক্টের ক্ষেত্রে পার্সেন্টেজ সাধারণত কম হয়ে থাকে। তবে ক্ষেত্রবিশেষে অ্যাফিলিয়েট কোম্পানি প্রোডাক্ট সেল করার জন্য পার্সেন্টেজের পরিবর্তে একটা নিদিষ্ট এমাউন্ট পে করে থাকে। আপনার ক্ষেত্রে পার্সেন্টেজ অথবা ফিক্সড এমাউন্ট কেমন হবে এটা মূলত নির্ভর করবে উক্ত কোম্পানির উপর। আপনি যখন কোনো কোম্পানির অ্যাফিলিয়েট পার্টনারশীপ পাওয়ার জন্য আবেদন করবেন তখন তাদের টার্মসের মধ্যে পার্সেন্টেজ নাকি ফিক্সড এমাউন্ট সেটা উল্লেখ করা থাকবে।

বর্তমানে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বহুল প্রচলিত একটি মার্কেটিং পদ্ধতী যা ব্যবহার করে লাখো লাখো মানুষ অনলাইন থেকে আর্নিং করছে। এই আর্টিকেলটি লেখার সময় পর্যন্ত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ইন্ড্রাস্ট্রির মার্কেট ভ্যালূ আনুমানিক ১২ বিলিয়ন ডলার বা তার বেশি। তাহলে বুঝতেই পারতেছেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের আজকের বাজারটা কত বড়। আপনিও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শিখে পার্টটাইম কিংবা ফুল টাইম সময় দিয়ে অনলাইন থেকে আয় করতে পারেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে কাজ করে?

বিভিন্ন কোম্পানি তাদের পণ্যের প্রচারণা চালানোর জন্য অ্যাফিলিয়েট পার্টনার নিয়োগ করে থাকে। এই অ্যাফিলিয়েট পার্টনাররা মূলত ভার্চুয়াল দুনিয়ায় বিভিন্নভাবে উক্ত কোম্পানিগুলোর পণ্যের প্রচার প্রচারণা চালিয়ে থাকে। অ্যাফিলিয়েট পার্টনার বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটাররা প্রথমে তাদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বিভিন্ন কোম্পানিতে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের পার্টনারশীপের জন্য আবেদন করে। কোম্পানিগুলো তাদের রিকোয়ারমেন্টস অনুযায়ী মার্কেটারদের আবেদনগুলো যাচাই করে সব ঠিক থাকলে অনুমোদন দিয়ে দেয় এবং কোথাও কোনো সমস্যা থাকলে উক্ত সমস্যা সমাধান করে আবার আবেদন করতে বলে।

যাদের আবেদন অনুমোদন পেয়ে যায় তাদেরকে একটি একাউন্ট ড্যাশবোর্ড দেওয়া হয়, যেখান থেকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটাররা উক্ত কোম্পানিগুলোর পণ্যের প্রচার প্রচারণা চালানোর জন্য পণ্যগুলো অ্যাফিলিয়েট লিংক জেনারেট করতে পারে। অ্যাফিলিয়েট লিংক জেনারেট এবং ক্লিক ও সেলস ট্র্যাকিংয়ের জন্য কোম্পানিগুলো সাধারণত Impact Radius অথবা Commission Junction এর মতো থার্ড পার্টি কোম্পানিগুলোকে ব্যবহার করে যাতে করে অ্যাফিলিয়েট পার্টনারদের বিশ্বস্ততা অর্জন করা যায়।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার জন্য কি কি প্রয়োজন?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার জন্য সর্বপ্রথমে আপনার যেটি প্রয়োজন সেটি হলো প্রচণ্ড ধৈর্যশক্তি রাখা অর্থাৎ, সহজ বাংলা কথায় আমরা যেটাকে বলি হাল ছেড়ে না দেওয়া। এর পরে আপনাকে ভালো দেখে একটি নিশ বা টপিক বেছে নিতে হবে যে ক্যাটাগড়ির প্রোডাক্ট আপনি প্রমোশন করবেন। নিশ/টপিক/ক্যাটাগড়ি বাছাই করার পূর্বে অবশ্যই আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যাতে করে ওই ক্যাটাগড়ির প্রোডাক্ট সম্পর্কে আপনার যথেষ্ট ধরণা থাকে এবং আপনি উক্ত ক্যাটাগড়ির প্রোডাক্ট সম্পর্কে লিখতে বা ভিডিও বানাতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

তবে বলে রাখা উচিত শুরুর দিকে কোনো প্রোডাক্ট সম্পর্কেই আপনার পারফেক্ট আইডিয়া নাও থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে আপনি গুগল সার্চ করলেও আপনার যতটুকু গ্যাপ আছে আপনি গুগল থেকে ধারণা নিয়ে আপনার কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে হুবহু গুগল থেকে কোনো লেখা বা ভিডিও কপি করে পাবলিশ করবেন না। আপনি একটি ক্যাটাগড়ির প্রোডাক্ট নিয়ে কিছুদিন লেখালেখি অথবা ভিডিও বানানোর পর নিজের মধ্যে একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন। প্রথমের দিকে কাজটা খুব কঠিন মনে হলেও পরবর্তীতে আস্তে আস্তে খুব সহজ মনে হবে। এখন আসি আসল কথায়। প্রকৃতপক্ষে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার জন্য আপনার কি কি দরকার?

ভিডিও তৈরির মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংঃ

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং আপনি আসলে বিভিন্ন ভাবে করতে পারেন। তার মধ্যে ভিডিও তৈরি করার মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা বর্তমানে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। শুধুর দিকে আপনার একটি ভালো মানের অ্যান্ড্রয়েড ফোন হলেও আপনি এই কাজটি মোটামুটি ভাবে চালিয়ে যেতে পারবেন। আর যাদের ভালো ক্যামেরা এবং কম্পিউটার আছে তারাতো একধাপ এগিয়ে আছেন।

আপনার যে ক্যাটাগড়ির প্রোডাক্টের প্রতি আগ্রহ বেশি সেসব প্রোডাক্ট নিয়ে আরেকটু স্টাডি করে রিভিউ টাইপের ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব কিংবা ফেসবুকে আপলোড করে ফেলুন এবং উক্ত প্রোডাক্টগুলোর অ্যাফিলিয়েট লিংক ডেসক্রিপশন বক্সে দিয়ে দিন। শুরুর দিকে হয়তোবা লক্ষ করবেন আপনার ভিডিওর কোনো ভিউ হচ্ছেনা, ভিডিওতে কোনো কমেন্ট আসতেছেনা। কোনো সমস্যা নেই, আপনি আপনার মতো কাজ চালিয়ে যান এবং ইউটিউব কিংবা ফেসবুকের অ্যালগরিদম ও এসইও সম্পর্কে গুগল থেকে একটু ধারণা নিয়ে কাজ চালিয়ে যান। দেখবেন আস্তে আস্তে আপনার ভিডিওর ভিউ বেড়ে যাচ্ছে।

যদি আপনি ইলিজিবল হন একসময় দেখবেন গুগল এবং ফেসবুক আপনার কনটেন্ট মনিটাইজেশন করার জন্যও বলছে। কনটেন্ট মনিটাইজেশন হয়ে গেলে আপনার অ্যাফিলিয়েট আর্নিয়ের পাশাপাশি গুগল এবং ফেসবুক থেকে আপনার ভিডিওতে অ্যাড দেখিয়েও আপনি আর্নিং করতে পারবেন। এর বাইরেও যখন আপনার ভালো অডিয়েন্স তৈরি হয়ে যাবে তখন বিভিন্ন কোম্পনি/প্রতিষ্ঠান আপনাকে স্পনসরশীপের জন্য অফার পাঠাবে। আপনি তখন স্পনসরশীপের মাধ্যমেও আর্নিং করতে পারবেন।

তবে সবকিছুর মধ্যে অবশ্যই এবং অবশ্যই আপনাকে একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, তা হলো আপনার ভিডিওগুলো যেন আপনার ভিউয়াররা পসিটিভলি নেয় এবং তারা যাতে আগ্রহের সাথে আপনার ভিডিও দেখতে পছন্দ করে। আপনি সবকিছুই করলেন কিন্তু আপনার ভিউয়াদের স্যাটিসফাই রাখতে পারলেন না। তাহলে সব শেষ হয়ে যাবে। আপনি যখন ভালো মানের কনটেন্ট দিবেন তখন দেখবেন আপনার ভিউয়াররাই আপনাকে নানাভাবে বাহাবা দিচ্ছে এবং আপনার থেকে আরো নতুন নতুন বিষয়ে তারা ভিডিও চাচ্ছে।

কনটেন্ট লেখার মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংঃ

অনেকেই আছেন যারা ভিডিও বানাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তারা চাইলেই সুবিধামতো একটি ক্যাটাগড়ি বেছে নিয়ে সেই ক্যাটাগড়ির প্রোডাক্টের উপর লেখালেখির মাধ্যমে আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং চালিয়ে যেতে পারেন। এখন কথা হচ্ছে আপনি কোথায় লেখালেখি করবেন? লেখালেখি করার জন্য আপনি নিজেই খুব সহজে একটি ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলতে পারবেন।

তবে এক্ষেত্রে আপনার ডোমেইন এবং হোস্টিংসহ একটি ওয়ার্ডপ্রেস থিমের প্রয়োজন হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১/২ হাজার টাকায় মোটামুটি মানের .com ডোমেইনসহ ১ বছরের জন্য হোস্টিং পাওয়া যায় এবং ওয়ার্ডপ্রেস থিম আপনি ফ্রিতেই পাবেন। আপনি যদি এই এক/দুই হাজার টাকাও শুরুর দিকে খরচ করতে না চান তাও সমস্যা নেই। শুরুর দিকে আপনি গুগলের ব্লগস্পট ব্যবহার করে খুব সহজেই একটি ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করে সেটিতে লেখালেখি শুরু করে দিতে পারেন।

ব্লগস্পট ওয়েবসাইট তৈরি করা খুবি সহজ। আপনার মাত্র কয়েকটি ক্লিকেই একটি থিম ইন্সটল করে ওয়েবসাইট হয়ে যাবে। পরে আপনি সেটিকে আপনার নিজের মতো করে সামান্য কাস্টমাইজ করে লেখালেখি শুরু করে দিতে পারেন। ওয়েবসাইট হয়ে গেলে আপনার নির্ধারিত ক্যাটাগড়ির উপর লেখালেখি শুরু করে দিন। আপনি প্রোডাক্টের রিভিউ, ভালোমন্দ এমনকি উক্ত প্রোডাক্টগুলির প্রোপার ইউস কিভাবে করতে হয় সেটির উপরেও লেখালেখি করতে পারেন।

আপনার উদ্দেশ্য যদি হয় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা তবে আমি রিকোমান্ড করবো আপনি ১/২ হাজার টাকা খরচ করে ওয়ার্ডপ্রেসের হেল্প নিয়ে নিজেই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলুন। আপনি নিজের ওয়েবসাইট নিজেই তৈরি করার জন্য আমার এই চ্যানেলটি ফলো করতে পারেন। আর আপনি যদি চান তাহলে আমাদের থেকেও স্বল্পমূল্যে অ্যাফিলিয়েট ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে পারেন। আমাদের থেকে অ্যাফিলিয়েট ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে এখানে যানঃ Future WEB BD

এখন প্রশ্ন হচ্ছে শুধু লেখালেখি করলেই কি সব হয়ে গেল? এক কথায় উত্তর হচ্ছে না। আপনি যদি শুধু লেখালেখি করেন তবে আপনার লেখা কেউ পড়বে না। আপনার লেখা মানুষকে পড়ানোর জন্য আপনার প্রত্যেকটি আর্টিকেল এসইও করতে হবে। আর এসইও হচ্ছে গুগল সহ অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনে আপনার কনটেন্টগুলোকে ইনডেক্স করার মাধ্যম।

অর্থাৎ, আপনি প্রথমে কোনো একটা ক্যাটাগড়ি বেছে নিয়ে উক্ত ক্যাটাগড়ির উপর লেখালেখি করবেন। উক্ত লেখাগুলোকে সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স করবেন। সার্চ ইঞ্জিন আপনার কনটেন্টগুলোকে পাঠকদের কাছে তুলে ধরবে। পাঠক আপনার ওয়েবসাইটে এসে কনভেন্স হলে আপনার দেওয়া লিংকে ক্লিক করে প্রোডাক্ট পারচেজ করলে আপনি একটা কমিশন পাবেন।

উপরোল্লিখিত বিষয়গুলো শুরুর দিকে আপনার কাছে কঠিন মনে হলেও কিছুদিন কাজ করলে আস্তে আস্তে সহজ হয়ে আসবে। আর আপনার কনটেন্টগুলোকে এসইও বা সার্চ ইঞ্জিনে অপটিমাইজ করার জন্য Yoast SEO ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিনটি ব্যবহার করতে পারেন। এই প্লাগিনটির মাধ্যমে এসইও করার সময় এটি আপনাকে রিকোমান্ড করবে কিভাবে আপনি এসইও করবেন। Yoast SEO ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিনটি আপনি ফ্রিতেই ব্যবহার করতে পারবেন এবং এটির ফিচারসগুলো সম্পর্কে বুঝতে সমস্যা হলে প্লাগিনটির রিকোমেন্ডেশনের ওখানে লিংক দেওয়া থাকবে।

অর্থাৎ, আপনি পারফেক্টলি এসইও করতে না পারলে কোথায় কোথায় আপনার ইমপ্রুভ করতে হবে সেটা ওই প্লাগিন আপনাকে সাজেশন করবে। সাজেশনের ওই লিংকে ক্লিক করে কিভাবে এবং কোথায় কোথায় আপনার ইমপ্রুভ করতে হবে সেটা Yoast SEO প্লাগিন আপনাকে দেখিয়ে দিবে।

তবে একটি বিষয় সর্বদাই মনে রাখতে হবে আর সেটি হলো কখনো আপনার রিডারদের সরাসরি কোনো প্রোডাক্ট পারচেস করতে বলবেন না। আপনি আপনার লেখনির মাধ্যমে আপনার রিডারকে কনভেন্স করবেন এবং আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংক উক্ত আর্টিকেলে যুক্ত করবেন। যেমনঃ প্রোডাক্টের নামটাতে হাইপারলিংক করে অ্যাফিলিয়েট লিংক যুক্তে করে দিতে পারেন। এক্ষেত্রে সরাসরি প্রোডাক্ট পারচেসের কথা না বললেও কাস্টমার আপনার উক্ত হাইপারলিংকে ক্লিক করে প্রোডাক্ট পারচেস করার একটা সম্ভাবনা আছে।

এর বাইরেও ফেসবুক কিংবা ইউটিউবের ভিডিওর মতো আপনার আর্টিকেলগুলিও গুগল কিংবা গুগলের মতো অ্যাডভার্টাইজিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মনিটাইজ করতে পারেন। এভাবে আপনার কনটেন্টে অ্যাড দেখিয়েও আপনি লেখালেখির মাধ্যমে আয় করতে পারেন।

আমি যেভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করিঃ

আমি এনভাটো মার্কেটের ডিজিটাল প্রোডাক্ট নিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করি। শুরুর দিকে খুব একটা রেসপন্স না পেলেও এখন আস্তে আস্তে খুব ভালো রেসপন্স পাচ্ছি। আমি সাধারণত বিভিন্ন থিম, প্লাগিন এবং বিভিন্ন ফ্রেমওয়ার্কের উপর লেখালেখি করার মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করছি। এক্ষেত্রে আমি প্রতিটি সেলের জন্য ৩০% কমিশন পাই। উদাহারণ স্বরুপ- কোনো কাস্টমার যদি আমার ওয়েবসাইটের কোনো লিংকে ক্লিক করে ১০,০০০ টাকা দামের একটি প্রোডাক্ট পারচেজ করে তবে আমি ৩,০০০ টাকা কমিশন পাই।

এই কমিশনের বাইরেও আমার ওয়েবসাইটের কনটেন্টগুলো মনিটাইজ করা। এই মনিটাইজেশন থেকেও প্রতিমাসে আমার মোটামুটি আয় হয়। মাঝে মাঝে আবার স্পন্সরও পেয়ে থাকি। সেখান থেকেও কিছু আর্নিং হয়। আমি কনটেন্ট লেখা ছাড়াও ফেসবুক এবং ইউটিউবের জন্য ভিডিও বানাই। এর বাইরেও আমি যেটা করি সেটা হচ্ছে প্রত্যেকটি কনটেন্টের নিচে আমি আমার নিজস্ব কিছু প্রমোশন চালাই। যেহেতু আমি নিজেই একজন ডেভেলপার, তাই কেউ যদি কোনো থিম, প্লাগিন বা ফ্রেমওয়ার্ক কিনতে চায় তাহলে আমি তাকে সেটি কাস্টমাইজ/মডিফিকেশন করে দেওয়ার অফার দেই।

স্ক্রিনশটসহ উপরের দেওয়া আমার স্ট্যাটেজিগুলো আপনিও ফলো করে দেখতে পারেন। আপনি যখন মোটামুটি মানের একটি অডিয়েন্স বানিয়ে ফেলতে পারবেন তখন দেখবেন আপনার সামনে অনেকগুলো অপরচুনিটি এসে হাজির হচ্ছে। তখন টাকার পিছনে আপনাকে দৌড়াতে হবেনা বরং টাকাই আপনার পিছনে দৌড়াবে।

কাদের জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এমন একধরণের কাজ আপনি যখন সময় পাবেন ঠিক তখনই কাজ করতে পারবেন। জব করার পাশাপাশি যারা ফ্রিল্যান্সিংয়ে আসতে চান তাদের জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে সেরা চয়েস। কারণ- আপনি যখনই ফ্রি সময় পাবেন, তখনই কাজ করতে পারবেন। কাজ করার জন্য এখানে কোনো ধরাবাঁধা সময় নেই। নেই কোনো প্রজেক্টের ডেডলাইন।

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের অন্যান্য ধরণের কাজ গুলোতে বায়ার নক দিলে সাথে সাথে রেসপন্স করতে হয়, অন্যথায় বায়ার অন্যজনকে কাজ দিয়ে দেয়। আপনি যদি কোথাও ফুলটাইম জব করেন তবে, সাধারণ ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজগুলোতে ক্লায়েন্টের বেঁধে দেওয়া ডেডলাইন অনেক সময় ফিলআপ করা সম্ভব হয়না। আর সময়মতো কাজ জমা দিতে না পারলে আপনার সেলার একাউন্টে ইফেক্ট পড়বে এবং পরবর্তীতে কাজ না পাওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাই যারা অন্য জবের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিংয়ে আসতে চান অথবা আপনি যদি স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষ হন, তবে আপনার বেস্ট চয়েস হতে পারে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।

অনলাইন আর্নিং/ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য আমার এই চ্যানেলটি ফলো করতে পারেন। এই চ্যানেলে আমি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ওয়েব ডিজাইন, ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপমেন্ট, এসইও, ফেসবুক মার্কেটিং এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিনিয়ত ভিডিও আপলোড করে থাকি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *